ফিরেছেন ভারতীয় প্রকৌশলীরা, ডিসেম্বরেই শেষ হবে আশুগঞ্জ-বিশ্বরোড সড়ক প্রকল্পের কাজ

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া চার লেন প্রকল্পের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশের কাজ। এ জন্য আগামী অক্টোবর মাস থেকেই পুরোদমে শুরু হবে আশুগঞ্জ থেকে  বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণ কাজ। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক আশুগঞ্জ নদী বন্দর থেকে আখাউড়া চার লেন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে এ কথা জানিয়েছেন।  

সচিব আরো জানান, এই প্রকল্পটি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল ইতিমধ্যে তা শেষ হয়ে গেছে। এরমধ্যে সড়কটির নির্মাণ কাজের জন্য ভারত থেকে যে পাথর আসার কথা ছিল সেই পাথরও চলে এসেছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় পেয়েছে। খুব দ্রুত এই পাথর আশুগঞ্জ নদী বন্দরে এসে পৌঁছাবে।  প্রথম ধাপে প্রকল্পটির ঢাকা-সিলেট মহাড়কের অংশ আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত কাজ শুরু হবে পুরোদমে। বাকি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের অংশের বিশ্বরোড  থেকে আখাউড়ার তন্তর পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ কাজটিও দ্রুত শুরু হবে। তবে শেষ হতে একটু সময় লাগবে। তিনি আরো জানান, গত বছরের ৫ই আগস্টের পর ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিরাপত্তার জন্য ভারতে চলে গিয়েছিল। তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দেয়ার পর ইতিমধ্যে তাদের সকল প্রকৌশলীরা চলে এসেছেন। আশা করছি- খুব দ্রুত কাজটি শুরু হলেই জনসাধারণের দুর্ভোগ লাগব হবে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্পের কাজেরও যে সকল জটিলতা ছিল তা কেটে গেছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বরোড থেকে নাসিরনগর-লাখাই সড়কেরও কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের সকল জটিলতা নিরসন করা হয়েছে। এছাড়া বালি ভড়াটের কাজও শুরু হবে খুব দ্রুত। পরিদর্শনের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক দিদারুল আলমসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া তন্তর পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়।  প্রকল্পের খরচ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ ২ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। বাকি ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা দেবে সরকার। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। বর্তমানে এই প্রকল্পের ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে চারলেন প্রকল্পের কাজে ধীরগতির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত দুই মহাসড়কে গত কয়েক বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাস্তার খারাপ থাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড  পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের খানাখন্দের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহন আটকা পড়ে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষের সড়কটি দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।  
জানা যায়, গত মার্চে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সভায় প্রকল্পের ৩টি প্যাকেজের মধ্যে ৩ নম্বর প্যাকেজ বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যেটির দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩০০ কিলোমিটার। এই প্যাকেজে তন্তর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন সড়ক করার কাজ অর্ন্তভুক্ত ছিল। এই প্যাকেজটি বাদের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত বহাল থাকায় নতুন করে খরচ কমিয়ে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পেশ করা হয়। বর্তমানে চলমান প্যাকেজ ১ ও ২ এর আওতায় মোট ৩৯ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত হবে।

প্রকল্প এলাকায় মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানি জমে আছে। জেলা শহরের বিরাশার বাসস্ট্যান্ডে গ্যাস ফিল্ডের সামনে বিশাল খানাখন্দ দেখতে জলাশয়ের মতো। এখানে প্রতিনিয়তই দেখা যায়- বাস-মালামাল বোঝাই ট্রাক এই জলাশয় থেকে উঠতে না পেরে আটকে রয়েছে। বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে এমন অবস্থা গত কয়েক মাস ধরে। চার লেন সড়ক উন্নীতকরণ কাজের জন্য দুর্ভোগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড গোলচত্বর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাধিকা থেকে উজানিসার পর্যন্ত বেহাল দশা সড়কের। বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে পানি জমে মহাসড়কে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *